Home অনুসন্ধান ‘ষ্টার’ নামের ফেসবুক পেজ দিয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি: মূলহোতা মানসুরা

‘ষ্টার’ নামের ফেসবুক পেজ দিয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি: মূলহোতা মানসুরা

মানসুরা আক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো সরকারি অনুমোদন নেই, নেই স্যাটেলাইট broadcasting বা অনলাইন পত্রিকার লাইসেন্স। শুধু একটি ফেসবুক পেজকে হাতিয়ার বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার শনির আখড়া এলাকার ঠিকানা দেয়া সম্মিলিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। যদিও তাদের মূল এলাকা গাজীপুর! এই ভয়ংকর চক্র টেলিভিশনের লোগো এবং সংবাদের আদলে ভিডিও প্রচার করে বিভ্রান্ত করছে দেশের জনগণকে। এই মাফিয়া চক্র এরইমধ্যে দেশজুড়ে, সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার কোন তোয়াক্কা না করে, কার্ড বিক্রি, ভুয়া নিয়োগ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রের প্রধান, মাফিয়া রাণী, মানসুরা আক্তার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের গরীব কৃষক ঘরের মেয়ে হলেও চড়েন দামী গাড়িতে। হাতে থাকে লাখ টাকার আইফোন! মানসুরা চক্রের বিরুদ্ধে রয়েছে শতশত অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ভূঁইফোড় ফেসবুক পেজ পরিচালনায় সরাসরি রয়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মানসুরা আক্তার। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত এই নারী নিজেকে ‘মূলধারার গণমাধ্যমকর্মী’ দাবি করলেও তার নেই কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বা প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা। একসময় অর্থের বিনিময়ে বেসরকারি এশিয়ান টিভির উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে নিজের পেজ খুলে নিজেকে ‘প্রভাবশালী সাংবাদিক’ হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ষ্টার পেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি নিজেকে ষ্টার টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দাবী করেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানসুরার মূল পেশা মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করা, প্রতারণা এবং ‘হানিফাঁদ’ (Honey Trap) পেতে অর্থ আদায় করা। কেউ তার কথামতো চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নিজেকে কখনো মানবাধিকার কর্মী আবার কখনো প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ দাবি করে তিনি থানা ও সিআইডির ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাসিল করেন। কালীগঞ্জের সম্মানিত ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

 

পাবলিক আড্ডায় মানসুরা প্রায়ই দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘সরকারের ২/৪ জন মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা তার ‘প্যান্টের পকেটে’ থাকেন’। তার ভাষায়, ‘আইন টাইন মানার সময় নাই, আমি মানসুরা যা বলি তাই আইন’। তার এ ধরনের ওদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাসিস্টের বেডকন্যা মাহিয়া মাহির কথা। অনেকের প্রশ্ন কোথায় পেল সে এই দাপট! বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে ফ্যাসিস্টের দোসরের অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখে, কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষ এক আতঙ্কের রাজ্যে বসবাস করেছেন। ভূঁইফোড় পেজকে টিভির রূপ দিয়ে ভুয়া সাংবাদিকতার এই রমরমা বাণিজ্য এখন পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

অনুমোদনহীন পেজকে টেলিভিশন হিসেবে চালিয়ে প্রতারণা এবং অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে অর্থ আত্নসাতের মতো গুরুতর অপরাধের বিষয়ে জানতে মানসুরা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ত আছেন বলে, প্রতিবারই সংযোগ কেটে দেন।

সাংবাদিকতার মতো পবিত্র পেশাকে কলঙ্কিত করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এই প্রতারক চক্রের প্রধান হোতা, মহিলা মাফিয়া মানসুরা আক্তার সহ তার ভয়ঙ্কর শক্তিশালী সংঘবদ্ধ গ্রুপের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন কালীগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। নয়তো এই চক্রের রোষানলে পরে বহু নিরীহ পরিবার শীঘ্রই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন বলে স্থানীয় নিরীহ জনগণের মতামত।